হাজার বছরের তালপাতার পুঁথি | প্রথম আলো

[ad_1]

পুঁথির প্রতিটি পাতাই আকর্ষণীয়। চোখ ফেরানো যায় না। তার মধ্যে ৬৮৯ ক্যাটালগের ৯১ পাতার সম্মুখভাগের পীত রঙের অষ্টভূজা ছবিটি যেন দেখেও শেষ করা যায় না। একই ক্যাটালগের ২ নম্বর পাতার পীত রঙের প্রজ্ঞাপারমিতা ছবিটিও যেন অনেক কথা বলে। ৮৫১ ক্যাটালগের ২৯ পাতার ছবিটির বর্ণনা দিয়ে যেন শেষ করার মতো নয়। ছবিটি শুভ্রবর্ণের। ষষ্ঠ বাহুবিশিষ্ট দেবমূর্তি। তাঁকে লাল পদ্মের ওপরে বজ্রাসনে দেখা যায়, যাঁর মাথা সাদা কাঠামোর মধ্যে হলেও অন্তর্ভাগ লালাভ।

প্রচুর অলংকারশোভিত জটাধারী দেবমূর্তির মাথার ওপরে পঞ্চখাঁজের মুকুট স্থাপিত। ছয় হাতের মধ্যে প্রধান দুটি হাত বুকের ওপরে রাখা। তাতে বজ্র ও ঘণ্টা ধারণ করে বজ্রহুংকার মুদ্রা প্রদর্শিত হয়েছে। অপর দুটি বাঁ হাতের একটি তরবারির আস্ফালন ও অন্যটি শস্যমঞ্জরি ধারণ করে আছে। ত্রিনেত্রবিশিষ্ট এ দেবমূর্তির অবয়ব আপাতদৃষ্টে শান্ত মনে হলেও চক্ষু বিদ্বেষপূর্ণ। ছবিটি যেন ষোড়শ শতকে লেওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা মোনালিসার হাসির সঙ্গে বিষণ্নতা মেশানো অমর সৃষ্টির কথাই মনে করিয়ে দেয়। পাতা ওলটাতে ওলটাতে হারিয়ে যেতে হয় হাজার বছর আগের পাল বংশের রাজত্বে।

এ দুর্লভ পুঁথি দুটি দেখে যে কারও মনে হতে পারে এ অমূল্য শিল্পের সন্ধান কে দিয়েছিলেন। তা কিন্তু জাদুঘরের কোথাও লেখা নেই। তবে সিংহভাগ সংগ্রহ কুমার শরৎ কুমার রায় নিজ অর্থ ও জনবলে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, যশোর, ঢাকা, কুমিল্লা এমনকি বেনারস ও মথুরা থেকেও নিয়ে আসেন। আপাতত তাঁর কথাই মনে করা যেতে পারে।

[ad_2]

Source link

Leave a Comment