আমাদের বনের ঢোল | প্রথম আলো

[ad_1]

পরদিন ভোরের আকাশটা একদম পরিষ্কার, খুব সকালেই পাহাড়ি পাথুরে ছড়া দিয়ে এগোতে থাকলাম। এ অঞ্চলটাতেই কদিন আগে একটি বুনো ভালুক স্থানীয় এক ব্যক্তিকে কামড়ে গুরুতর আহত করেছিল। এ এলাকার আশপাশেই এখনো বনগরু, বনছাগল আর চিতা বাঘ আছে বলে সব রকম তথ্য পাওয়া যায়। বোয়াছড়ির একজন জেলে জুন মাসেই একটি বাঘকে নদী পার হতে দেখেছেন বলে তথ্য দিলেন। এ ছাড়া এ এলাকায় বুনো হাতির একটি দলও আছে। সব মিলিয়ে একেবারেই বুনো পরিবেশ যাকে বলে।

দুসরী যেতে আমাদের প্রায় ১১টা বেজে গেল। এরপর ছড়ার পানি একেবারেই কম। নৌকা ঠেলে আর যাওয়া সম্ভব হলো না। ওইখানেই নৌকা নোঙর করে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হলো। প্রায় দুই ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকলাম। বেশ কয়েক প্রজাতির পাখির ছবি তুললাম।

এর মধ্যে একটি পাখি ছিল গোল্ডেন ক্রেস্টেড ময়না। একটি প্রাণীর পায়ের ছাপ দেখতে পেলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম বুনো হরিণের পায়ের ছাপ। কিন্তু এক গবেষক সহকর্মী বললেন, এগুলো বুনো কুকুর বা ঢোলের পায়ের ছাপ। এর আগে ঢোলের এত ছাপ একসঙ্গে দেখিনি। মনে হলো, কাসালং বনটিতে বনের ঢোল বেশ ভালো অবস্থায় টিকে আছে।

আমাদের বনের ঢোল নিয়ে গবেষক কিংবা সাধারণ মানুষের আগ্রহ কম। হয়তো বুনো পরিবেশে এর দেখা পাওয়া যায় না বলেই প্রাণীটি সংরক্ষণের গুরুত্ব পায় না। অথচ এই প্রাণী দুই যুগ আগেও আমাদের প্রায় সব গহিন বনেই ছিল। সম্প্রতি তানিয়া জাকির ও মুনতাসির আকাশের একটি গবেষণাপত্রে হবিগঞ্জের সাতছড়ি বনে প্রাণীটি আছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বনটি থেকে বেশ কিছু ছবিও তুলেছেন তাঁরা।

[ad_2]

Source link

Leave a Comment