আমি এখন শুধু ‘নাপাম গার্ল’ নই

[ad_1]

সংজ্ঞা অনুযায়ী, সময়ের বিশেষ এক মুহূর্তকে ধারণ করে ছবি। কিন্তু ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা, বিশেষ করে শিশুরা অবশ্যই কোনো না কোনোভাবে সামনে এগিয়ে যায়, ছবির মতো থমকে থাকে না। আমরা প্রতীকী কিছু নই, আমরা মানুষ। আমাদের কাজ করতে হয়। ভালোবাসার মানুষকে পেতে হয়। মেলামেশা করার মতো লোকজন চাই। পড়ালেখার জন্য, বেড়ে ওঠার জন্য চাই উপযুক্ত পরিবেশ।

কানাডায় পাড়ি জমানোর পর, পরিণত বয়সে আমি প্রথম শান্তির খোঁজ পেতে শুরু করি, জীবনের লক্ষ্য বুঝতে শুরু করি। এ ক্ষেত্রে আমার বিশ্বাস যেমন কাজ করেছে, তেমনি পেয়েছি স্বামী ও বন্ধুবান্ধবের সাহচর্য। সবার সহযোগিতায় একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে ভ্রমণ শুরু করি। উদ্দেশ্য, যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার শিশুদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো, তাদের ওষুধপত্র দেওয়া এবং তাদের এটা বিশ্বাস করানো যে আশা আছে, সব সম্ভাবনা হারিয়ে যায়নি।

যদি আপনার গ্রামে বোমা ফেলা হয়, যদি আপনি দেখতে পান আপনার বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে, পরিবারের সদস্যরা মারা গেছে, রাস্তায় পড়ে আছে নিরপরাধ মানুষের মরদেহ, এতে আপনার অনুভূতি কেমন হবে, তা আমি জানি। ভিয়েতনাম যুদ্ধের এমন ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করছে অগণিত সংবাদচিত্রে। দুঃখজনক বিষয় হলো, সব যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি আসলে একই রকম; যেভাবে আজ ইউক্রেনে মানুষের অমূল্য জীবন ক্ষয় করা হচ্ছে, সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে, এর সঙ্গেও ভিয়েতনাম যুদ্ধের কোনো ফারাক নেই।

আবার একটু অন্যভাবে দেখলে, এসব ছবি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালানো বন্দুক হামলার ভয়ংকর ছবিরও অনুরূপ। যুদ্ধক্ষেত্রে যেমনটা দেখি, এ ক্ষেত্রে সেভাবে হয়তো আমরা মরদেহ দেখছি না, কিন্তু এসব বন্দুক হামলা অভ্যন্তরীণভাবে যুদ্ধেরই সমার্থক। গণহত্যার ছবি, বিশেষ করে হামলার শিকার শিশুদের ছবি প্রকাশ্যে আনা হয়তো অসম্ভবই ঠেকে, কিন্তু আমাদের অবশ্যই এর মুখোমুখি হতে হবে। আমরা যদি যুদ্ধের পরিণতি দেখতে না পাই, তবে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা লুকিয়ে রাখা সহজ হয়ে যায়।
আমি টেক্সাসের ইউভালদের স্কুলে বন্দুক হামলার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না, কিন্তু আমি মনে করি, বন্দুক হামলার জেরে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, সেই বাস্তবতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা দরকার। আমাদের অবশ্যই এই সহিংসতাকে সামনে থেকে রোধ করতে হবে এবং এর প্রথম পদক্ষেপ হলো এটির দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়, বরং এর দিকে নজর দেওয়া।

[ad_2]

Source link

Leave a Comment