জেনে নিই সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়ম এবং পরিহার করি অহেতুক ঝামেলা

[ad_1]

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সিম রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে সবাই কম বেশি ঝামেলায় থাকেন। মোটের উপরে আমাদের অনেকেরই জানা নেই আসলে সিম কিভাবে রিপ্লেস করতে হয় বা সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়মগুলো কি কি? 

তবে সিম রিপ্লেসিং সম্পর্কে জানা না থাকলেও এই প্রক্রিয়াটি আপনাকে দেবে কিছু দুর্দান্ত সুবিধা যেমন আপনার ইন্টারনেটের গতি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে। 

আপনি আগের চাইতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে আপনার প্রিয় মানুষটির সাথে কথা বলতে পারবেন। আর কথা বলার সময় যেসব ভোগান্তি পোহাতে হতো যেমন নেটওয়ার্কিং এর অসুবিধা, ফোন কলের সময় নেটওয়ার্ক বার বার কেটে যাওয়া, বিশেষ করে যারা এখনো সেই আদিযুগের 2G এবং 3G সিমেই আটকে আছেন। 

Techshohor Youtube

আবার কেউ কেউ তো নতুন ফোন কিনলেও বাড়তি ঝামেলার কথা ভেবে সেই পুরনো সিমই ব‍্যবহার করেন কিন্তু ফোন কিন্তু বারবার 4G সিম রিপ্লেসমেন্টের এলার্ট দিতেই থাকে। 

ফলশ্রুতিতে যা হবার তাই হয় আপনি ম‍্যারাথনের গতিতে দৌড়ালেও আপনার সিম কিন্তু যেই কি সেই জায়গায়ই আটকে থাকে। তাহলে আর ভাবছেন কেন, পড়ে ফেলুন আজকের লেখাটি আর করে ফেলুন সিম রিপ্লেসমেন্ট আজই।

সিম রিপ্লেসমেন্ট কি?

সিম রিপ্লেসমেন্ট মূলত একটি প্রক্রিয়া যার মাধ‍্যমে আপনি আপনার বর্তমান সিম কার্ডকে আপডেট করে রিনিউ করতে পারবেন। অর্থাৎ ধরুন আপনার আগে এনালগ ফোন ছিল আর বহু আগে কেনা একটা পরিচিত সিম রয়েছে যা আপনার ক্রেডিট কার্ডের পাসওয়ার্ড এর মতোই গুরুত্বপূর্ণ । এখন আপনি নতুন ফোন কিনে দেখলেন যে আগের সিমটা আর ব‍্যবহার করা যাবে না। আর এই সমস‍্যার সমাধানই হচ্ছে সিম রিপ্লেসমেন্ট যেখানে আপনি পুরনো সিম বদলে একদম হুবহু সেইম অপারেটিং নাম্বারের আরেকটু আপডেটেড সিম কার্ড ব‍্যবহার করতে পারবেন।

সিম রিপ্লেসমেন্ট করার সুবিধা এবং অসুবিধা

সিম রিপ্লেসমেন্টের রয়েছে বেশ কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা। তবে সুবিধা গুলো নিয়েই আগে নিচে আলোচনা করা হলো। 

সুবিধাসমূহ 

  • সিম রিপ্লেসমেন্ট এর মাধ‍্যমে আপনি 4G, 5G সেবাসমূহ উপভোগ করতে পারবেন
  • ইন্টারনেটের গতি হবে দুর্দান্ত 
  • নেটওয়ার্কের কোন ঝামেলা বা অসুবিধা হবে না
  • আপনাকে আপনার পুরনো সেইভ করা নাম্বার খোঁজার জন‍্যে অসুবিধায় পরতে হবে না
  • আপনি সম্পূর্ণ নতুন একটি ডুপ্লিকেট কপি পেয়ে যাচ্ছেন 
  • অনেক সিম কোম্পানি রিপ্লেসমেন্টের জন‍্যে বিভিন্ন ধরনের অফার দিয়ে থাকে, ফলে আপনি বিভিন্ন ইন্টারনেট প‍্যাকেজসহ বিভিন্ন ধরনের বাড়তি সেবা উপভোগ করতে পারবেন।

অসুবিধাসমূহ 

নিজের নামে যদি নিবন্ধিত করা না থাকে, তাহলে পড়তে হয় বাড়তি ঝঁক্কিতে। কেননা বেশিরভাগ সিমই আজকাল বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয়ে থাকে। ফলে আপনার নামে নিবন্ধিত না হলে বাড়তি খরচ তো আছেই তার সাথে ওই ব‍্যক্তিকে কাস্টমার কেয়ারে নিয়ে গিয়ে তার হাতের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পুনরায় সিমটিকে আপনার নামে ট্রান্সফার করতে হয়। যা প্রকৃতপক্ষেই বেশ সময় সাপেক্ষ এবং কষ্টসাধ্য ব‍্যাপার। 

সিম রিপ্লেসমেন্ট করার কেন করবেন?  

সিম রিপ্লেসমেন্ট পুরোটাই আপনার ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। তফে আপনার যদি পুরনো সিমটি একেবারেই অকেজো হয়ে থাকে, তাহলে সিম রিপ্লেসমেন্ট করে নেওয়াই ভালো। তাছাড়া অনেকের পুরনো সিমে অনেক প্রয়োজনীয় নাম্বার সেইভ করা থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি যদি সেগুলো পুনরুদ্ধার করতে চান তাহলে রিপ্লেসমেন্ট আপনার জন‍্যে অত‍্যধিক জরুরি। তাছাড়া হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া ফোনে ব‍্যবহৃত সিম পুনরুদ্ধার করতেও রিপ্লেসমেন্ট একটি অন‍্যতম উপায়। 

সিম রিপ্লেসমেন্ট করতে কি কি লাগে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সমূহ?

সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়ম খুবই সাধারণ এবং অল্প কিছু টাকা খরচেই আপনি এটি করিয়ে নিতে পারবেন। রিপ্লেসমেন্টের জন‍্যে আপনার লাগবে- 

  • পুরনো/ হারিয়ে যাওয়া/ নষ্ট সিমের নাম্বার 
  • NID কার্ড বা NID এর ফটোকপি 
  • যার নামে সিমটি বায়োমেট্রিক করেছিলেন উক্ত ব‍্যক্তিকে অবশ‍্যই কাস্টমার পয়েন্টে উপস্থিত থাকতে হবে।

সিমের মালিকানা পরিবর্তন করতে কি কি লাগে? 

সিম রিপ্লেসমেন্ট করতে যা যা লাগে এখানেও আপনার সেসব জিনিসই লাগবে।তবে এখানে আপনাকে উক্ত ব‍্যক্তির হাতের ছাপ দিয়ে সিমের একটি পিন কোড বের করতে হবে এবং কাস্টমার কেয়ারের ব‍্যক্তির কাছে টাকা ট‍্যাবের মাধ‍্যমে আপনার সিমের পুরনো মালিকানা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে। পুনরায় আপনার নামে সিমটিকে নিবন্ধন এবং বায়োমেট্রিক করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে খরচ পরবে ২০০-২৫০ কিংবা কিছু কম বেশি হতে পারে।

বিভিন্ন ফোন অপারেটরের সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়ম

চলুন এবার বিভিন্ন সিম অপারেটর যেমন গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটকের সিম রিপ্লেসমেন্টের খরচ, কোথায়, কিভাবে করতে হবে সে সম্পর্কেও জেনে নেওয়া যাক। 

রবি সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়ম

  • প্রথমে আপনাকে রবি কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে। তবে তার আগে নিকটস্থ কোন সিম বিক্রির দোকানে যাবেন শুধু এইটুকু নিশ্চিত হতে যে আপনার সিমটি পরিবর্তনের যোগ‍্য কি না। যদি সিমটি অকেজো হয়ে থাকে তাহলেও আপনি ওই সিমের একটি প্রতিলিপি বা কপি কাস্টমার কেয়ার পয়েন্ট থেকে তুলতে পারবেন। 
  • এছাড়াও রবি ডোরস্টেপের মাধ‍্যমে আপনি তাদের ডেলিভারি বয়ের সাহায্যে সিমটি রিপ্লেস করতে পারবেন। তবে তার জন‍্যে আপনাকে রবির নিজস্ব ওয়েবসাইটে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। একাউন্ট খুলতে রবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটি আপনার ব্রাউজারে ওপেন করুন এরপর তাদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী একটি একাউন্ট খুলে নিন এবং অবশ‍্যই পাসওয়ার্ড টি গুগল সেইভ কি এর মাধ‍্যমে সেইভ করতে ভুলবেন না।
  • একাউন্ট খোলা হয়ে গেলে আপনি সেখানে বিভিন্ন ধরণের অফারের মধ‍্যে সিম রিপ্লেসমেন্ট অপশনটিও দেখতে পাবেন। এবার যাবতীয় তথ‍্য দিয়ে ঘরে বসেই করে সেরে ফেলুন সিম প্রতিস্থাপনের কাজটি। 
  • সিম রিপ্লেস করতে আপনার খরচ পরবে ২০০-২৫০ এবং ডেলিভারী চার্জ ৫০ টাকা।

বাংলালিংক সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়ম

  • আপনি যদি বাংলালিংক এর গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে সবার প্রথমে আপনাকে কনফার্ম হতে হবে আপনার সিমটি প্রতিস্থাপনের যোগ‍্য কিনা। এর জন‍্যে আপনাকে ডায়াল করতে হবে *৫০০০*৪০# এর মাধ‍্যমে আপনি জেনে নিতে পারবেন আপনার সিমটি ফ্রিতে প্রতিস্থাপনের যোগ‍্য কিনা কেননা মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে বাংলালিংক এই ধরনের সেবা প্রদান করে থাকেন। অথবা ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন free4G এরপর সেটি ২৫০০ নাম্বারে পাঠিয়ে দিন। যদি যোগ‍্য হয় তাহলে আপনাকে একটি ফিরতি মেসেজের মাধ‍্যমে ইনফরম করা হবে।
  • আর না হলে বাংলালিংকের কাস্টমার কেয়ারে কিংবা বায়োমেট্রিক রিটেইলার পয়েন্টে যোগাযোগ করতে হবে। 

বাংলালিংক এর ক্ষেত্রেও আপনাকে সেই একই পদ্ধতি এবং একই কাগজপত্র নিয়ে কাজ করতে হবে। আর আপনি যদি জানতে চান বাংলালিংক সিম রিপ্লেসমেন্টে কত টাকা লাগবে। তবে বলে রাখা ভালো এরজন‍্যেও খরচ পরবে একই ২০০-২৫০ টাকা। আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন MyBL App টিতে।

গ্রামীণফোন সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়ম

এবার আসা যাক আপনি যদি গ্রামীণফোনের গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে কি করবেন। অবশ‍্যই নিচে দেয়া নির্দেশনা গুলো মেনে কাজ করবেন। 

  • এখান ও আপনাকে কাস্টমার কেয়ার বা নিকটস্থ ফ্লেক্সিলোডের দোকানে গিয়ে আপনার সিমটি রিপ্লেস করতে হবে। 
  • তবে ফ্রি তে বা অফারে প্রতিস্থাপনের জন‍্যে তথ‍্য পেতে ডায়াল করুন *৪৫৮*৪৪* এরপর আপনার ফোন নম্বরটি দিয়ে, # চাপুন। ফিরতি মেসেজেই জেনে যাবেন আপনার সিমটি গ্রামীণের বিশেষ অফারে প্রতিস্থাপনের যোগ‍্য কি না। 

এখন যদি আপনি জানতে চান গ্রামীণফোন সিম রিপ্লেসমেন্টে কত টাকা পরতে পারে তাহলে বলবো এখানেও আপনার খরচ পরবে ২০০-২৫০ টাকা। তবে জিপি সিম প্রায়ই প্রতিমাসেই একটি নির্দিষ্ট সময়ে ফ্রি’তে সিম পরিবর্তনের সেবা দিয়ে থাকে তাই আপনাকে এখানে বাড়তি খরচ নিয়েও ভাবতে হবে না।  

টেলিটক সিম রিপ্লেসমেন্ট করার নিয়ম 

টেলিটকের গ্রাহকদেরও সিম প্রতিস্থাপনের জন‍্যে যেতে হবে টেলিটকের কাস্টমার কেয়ার পয়েন্টে। সেখানে গিয়ে আপনার NID এর ফটোকপিসহ আরও যাবতীয় তথ‍্য প্রদান করে সিমটি প্রতিস্থাপিত করতে হবে। আর এখানে আপনার সর্বমোট খরচ পরবে ১৫০ টাকা। আরও তথ‍্য জানতে ভিজিট করুন টেলিটকের অফিশিয়াল পেইজটিতে : টেলিটক সিম রিপ্লেসমেন্ট। এখানে আপনি টেলিটকের সিম রিপ্লেসমেন্ট বিভিন্ন তথ‍্য সম্পর্কে ও জানতে পারবেন।

এয়ারটেল সিম রিপ্লেসমেন্টের নিয়ম 

রবির মতো এয়ারটেলেও অপারেটর ডোর স্টেপ সার্ভিসের সেবাটি চালু আছে। আপনি চাইলে এখান থেকেও ২০০-২৫০ টাকা খরচে সিম প্রতিস্থাপনের সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার বা সিম বিক্রির দোকানেও একই ধরনের সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। এয়ারটেলের সিম প্রতিস্থাপন সম্পর্কিত বিভিন্ন অফার সম্পর্কে তথ‍্য পেতে ভিজিট করতে পারেন তাদের এই ওয়েব এড্রেসটিতে : এয়ারটেল সিম রিপ্লেসমেন্ট। এখানে আপনার খুঁটিনাটি বিস্তারিত যা কিছু জানার সবকিছু সম্পর্কে একবারেই তথ‍্য পেয়ে যাবেন। 

তবে এয়ারটেল সিমের আরও একটি বড় সুবিধা হচ্ছে এর মাধ‍্যমে আপনি আপনার 2G কিংবা 3G সিম দিয়েই 4G ব‍্যবহারকারীদের অফার ব‍্যবহার করে ইন্টারনেট প‍্যাকেজ উপভোগ করতে পারবেন খুব সহজেই। তাই আর বেশি দেরি না করে ঝটপট কাজে লেগে পরুন। রিপ্লেস করে ফেলুন আপনার পুরনো সিম এবং উপভোগ করুন আগের চাইতেও আরও ভালো এবং দুর্বার গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট স্পীড। 

পরিশেষে বলতে চাই যে, সিম রিপ্লেসমেন্ট কাজটি যতটা কঠিন বা ঝামেলার বলে মনে হয় আসলে কিন্তু এটি খুব একটা ঝামেলার নয়। বরং রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে আপনি যত বেশি দেরি করবেন ততই বেশি ঝামেলায় জড়িয়ে যাবেন। আমাদের লেখাটি পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই আমাদের অন‍্যান‍্য আর্টিকেল গুলো পড়ে দেখতে ভুলবেন না।



[ad_2]

Source link

Leave a Comment