ভূমি দখল ও অপর করে দেওয়ার রাজনীতি

[ad_1]

বান্দরবান, দিনাজপুর ও সাতক্ষীরার ঘটনা আপাত বিচ্ছিন্ন বলে মনে হলেও ভয়াবহ রকম যোগসূত্র রয়েছে। সংখ্যালঘু জাতিসত্তার মানুষকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে ক্রমেই প্রান্তে ঠেলে দেওয়া। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার মাত্র ১ শতাংশ। ক্রমাগত তাদের ভূমি দখলের একটা ভয়াবহ চিত্র পাওয়া যায় অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের ‘পলিটিক্যাল ইকোনমি অব আনপিপলিং অব ইন্ডিজিনাস পিপলস: দ্য কেস অব বাংলাদেশ’ শিরোনামের  গবেষণাগ্রন্থে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত বইটিতে তিনি লিখেছেন, ‘২৭ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী মানুষের অনুপাত ছিল ৭৫ শতাংশ, এখন তা ৪৭ শতাংশ। তিন দশক ধরে ওই অঞ্চলে আদিবাসী কমছে আর বাঙালির সংখ্যা বাড়ছে। পাহাড়িরা হারিয়েছে ভূমি-বনাঞ্চল আর আমদানি করা সেটেলার বাঙালিরা দুর্বৃত্ত, আমলা, প্রশাসনের যোগসাজশে তা দখল করেছে।’

আবুল বারকাত তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন, গত ৬৪ বছরে সমতলের ১০টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ২ লাখ ২ হাজার ১৬৪ একর জমি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যার দাম প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ফলে পাহাড় কিংবা সমতলে সংখ্যালঘু জাতিসত্তাগুলোকে অপর করে দেওয়ার এই রাজনীতির পেছনে মূল কারণ হচ্ছে ভূমি দখল। সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রভাবশালী ব্যক্তি, গোষ্ঠী– সবাই পাল্লা দিয়ে তা করে আসছে। রাষ্ট্রের তাতে পৃষ্ঠপোষকতা আর নীরব সমর্থন থাকছে।

মনোজ দে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক

[email protected]

[ad_2]

Source link

Leave a Comment