জানেন কী নাসার তৈরি এসব পন্য আপনি ব্যবহার করছেন?

[ad_1]

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তৈরি অনেক জিনিসই ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব জিনিসের নাম ও সংখ্যা শুনলে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে। জিনিসগুলো আমাদের জীবনকে আরো সহজ করেছে।

সেলফোন ক্যামেরা

নব্বুইয়ের দশকে নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবের (জেপিএল) বিজ্ঞানী এরিক ফুসামের নের্তৃত্বে একটি কমপ্লিমেন্টারি মেটাল-অক্সাইড সেমিকন্ডাক্টর (সিএমওএস) সফলভাবে ছোট করতে সমর্থ হয়। এই সেন্সরগুলি সেই সময়ে ব্যবহৃত চার্জ কাপলড ডিভাইস (সিসিডি) সেন্সরের তুলনায় অবশ্যই ভালোমানের ছিল। তবে এর এডাপশন ছিলো ধীরগতির। আজকে সেলফোনগুলোয় আমরা যে ছোট সেন্সর দেখতে পাচ্ছি এগুলো তৈরির পথ মূলত ফুসাম ও তার সহকর্মীদের গবেষণা এবং অধ্যাসায়ের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। আর এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে হোম সিকিউরিটি ক্যামেরা, ভিডিও ডোরবেল, ড্যাশ ক্যাম ইত্যাদি। ফুসাম ও তার সহকর্মীরা ফটোবিট কোম্পানি শুরু করে এবং শিল্প ও বাণিজ্যিকভাবে সিএমওএস সেন্সরগুলো ব্যবহারের নের্তৃত্ব দেয়।

Techshohor Youtube

মেমোরি ফোম

মেমোরি ফোমের তৈরি বালিশ, তোষক থেকে শুরু করে গাড়ির সিটও আমাদের নিত্য ব্যবহার্য প্রযুক্তি পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমেরিকায় এমন কোন পরিবার পাওয়া যাবে না যেখানে এই মেমোরি ফোমযুক্ত বস্তু নেই। এজন্য অবশ্যই ধন্যবাদ পাবেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

ষাটের দশকে এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন নাসার বিজ্ঞানীরা। ‘টেম্পার ফোম’ মূলত নাসার উড়োজাহাজে পরীক্ষামূলক পাইলটদের গভীর ও শরীর সামঞ্জস্যপূর্ণ সতর্কতা প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রকেট উৎক্ষেপনের সময় চাপ এবং পুনরুদ্ধার ক্যাপসুলগুলো পৃথিবীতে ফেরার কালে মহাকাশচারীদের শরীরকে তিব্র ঝাঁকুনি থেকে সুরক্ষিত রাখতেও টেম্পার ফোম ব্যবহার করা হয়।

ওয়্যারলেস হেডফোন

মহাকাশচারীদের শুধুমাত্র জাহাজকেন্দ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর যাতে নির্ভর করতে না হয় সেজন্য ষাটের দশকের দিকে নাসা আইটিটি ল্যাবে একটি বহনযোগ্য ওয়্যারলেস রেডিও সিস্টেম উদ্ভাবন করে। যার সূত্র ধরে তারবিহীন যোগাযোগ, নয়েজ ক্যান্সেলিং এবং বিভিন্ন ধরনের হেডফোন তৈরি হচ্ছে।

এলইডি উদ্ভাবন

জেনারেল ইলেক্ট্রিকের বিজ্ঞানী নিক হলোনিয়াক সর্বপ্রথম এলইডি উদ্ভাবণ করলেও এলইডি-র গবেষণায় অনেক অর্থ ব্যয় করেছে নাসার।
ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে মহাকাশচারীদেরকে এলইডি আলোর মধ্যে উদ্ভিদ চাষ এবং ক্ষত চিকিৎসার জন্য ইনফ্রারেড এলইডি লাইট তৈরিতে এই গবেষণা করে নাসা। পরবর্তীতে এই গবেষণা বাড়িতে আলোক নকশা, ঘুমের সরঞ্জাম এবং অ্যাপস তৈরিতে কাজে লাগে।

বেবি ফর্মূলা

আশির দশকের দিকে নাসা এবং মার্টিন ম্যারিয়েটা করপোরেশন খাদ্য, অক্সিজেন তৈরি এবং আবর্জনা সরানোর মতো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে মাইক্রোয়েলগের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করে। এই প্রক্রিয়ায় তারা ডকোসাহেক্সানাইক এসিড (ডিএইচএ) নামের একটি ফ্যাটি এসিড উদ্ভাবন করে; যা শেওলা ব্যবহার করেও উৎপাদন সম্ভব। পরবর্তীতে ফাঙ্গাস ব্যবহার করে অ্যারাচিডনিক নামে আরেকটি গুরুত্বপূর্ন ফ্যাটি এসিড উৎপাদন করে।
নাসার বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত এই ডিএইচএ ক্রমান্বয়ে উন্নত বেবি ফর্মূলা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠে। পরে এটি ফর্টিফাইং দুধ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।
শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ডিএইচএ খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর কমদামি উৎপাদন পদ্ধতি আবিষ্কারের পর থেকে বিশ্বের কোটি কোটি শিশু ফর্মূলা দুধের মাধ্যমে মস্তিষ্ক বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে।

উন্নত স্মোক ডিটেক্টর

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মোক ডিটেক্টর – আয়োনাইজেশন। নাসা এবং হানিওয়েল ১৯৭০ সালে এই স্মোক ডিটেক্টর উন্নত করতে কাজ করে। দুপক্ষ যৌথভাবে স্কাইল্যাবের জন্য স্মোক অ্যালার্ম তৈরি করে; যা আগুন বা ধোয়া শনাক্ত করতে পারবে কিন্তু কোন ভুয়া অ্যালার্ম তৈরি করবে না।
পরবর্তীতে স্মোক ডিটেকশন সিস্টেম অনেক উন্নত হয়েছে। ফটো ইলেক্ট্রিক সেন্সর যুক্ত হয়েছে এতে। কিন্তু আয়োনাইজেন স্মোক ডিটেক্টর এখনো অনেক সস্তা এবং সব জায়গায় পাওয়া যায়।

ইন্টারনেট/আরপি



[ad_2]

Source link

Leave a Comment