এপ্রিলের মৃত্যু কী অনলাইনে শিশু নির্যাতন থামাতে পেরেছে?

[ad_1]

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: ২০১২ সালের ১ লা অক্টোবরে নিখোঁজ হন এপ্রিল জোনস। তাকে খোঁজতে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় তল্লাশী কার্যক্রম চালায় ব্রিটিশ পুলিশ। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায় স্থানীয় ব্যাক্তি মার্ক ব্রিজার জোনসকে অপহরনের পর হত্যা করেছেন। মার্ক ব্রিজার পরবর্তীতে জানা যায় মার্ক ব্রিজার ভয়াবহ শিশু যৌণ নির্যাতনকারী। ব্রিজারকে আটকের পর তার বাড়ির কম্পিউটারে শিশুদের যৌণ নির্যাতনের ছবিগুলোর একটি লাইব্রেরি পাওয়া যায়। সেখাতে হত্যাকান্ডের শিকার এপ্রিল জোনসের ছবিও ছিলো। এপ্রিল এবং তার বোনসহ স্থানীয় অনেক মেয়েশিশুর সঙ্গে তার ছবিও ছিলো। পরবর্তীতে এপ্রিল জোনসকে অপহরন ও হত্যার দায়ে ব্রিজারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়।

এপ্রিলের মৃত্যুর পর তার মা-বাবা নির্যাতনকারীদের হাত থেকে শিশুদের রক্ষার জন্য কঠোর আইনের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। আন্দোলনের মধ্যেই তারা জানান পুলিশ পর্যাপ্ত তৎপড়তা দেখাচ্ছে না। বিষয়টি জানার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আইডব্লিউএফকে শিশু নির্যাতনের ছবি খোঁজে বের করে তা অপসারনের ক্ষমতা দেন। পাশাপাশি আইন প্রয়োগের বিষয়েও কাজ করতে বলেন। অবশ্য জোনস নিখোঁজ হওয়ার শুরু থেকেই এ বিষয়ে ক্যামেরন সোচ্চার ছিলেন। তিনি বলেছেন, এটি একজন মা-বাবার জন্য ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে মতো।

এদিকে আইডব্লিউএফ জানিয়েছে তারা এসব নির্যাতনের ছবি শনাক্ত করে মুছে ফেলতে পারে। কিন্তু নতুন করে আরেকটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিশুরা এখন বাড়িতে বসেই পর্ণধরনের ভিডিও তৈরি করছে। ফলে এই শিশুরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি হুমকির মধ্যে রয়েছে।

Techshohor Youtube

আইডব্লিউএফের সুসে হারগ্রেভস জানিয়েছেন, এপ্রিল জোনসের পরিবারের ক্যাম্পেইন অন্যান্য শিশুদের সুরক্ষা দিতে সহায়তা করেছে।

এপ্রিলের মৃত্যুর দশ বছর পর আইডব্লিউএফের এই প্রধান নির্বাহি বলেছেন, এপ্রিলের মৃত্যুর পর তাদের হাতে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তা ইন্টারনেটের নিরাপত্তা রক্ষায় ‘গেম চেঞ্জার’ মতো কাজ করেছে। এপ্রিলের মৃত্যু একটি জাগরনের ডাক দিয়েছে। এপ্রিলের মা-বাবা তাদের সন্তানের সাথে যা ঘটেছে তা অন্যশিশুর বেলায় যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সবই করেছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার পর ইন্টারনেট থেকে আমরা হাজার হাজার ছবি নামিয়ে ফেলেছি। এপ্রিলের মৃত্যুর পর তীব্র প্রতিবাদ না হলে এটি সম্ভব ছিলো না। এপ্রিলের মৃত্যুর পর আমরা ১৩ হাজার ওয়েব পেজ অপসারন করেছি। গত বছর ২ লাখ ৫২ হাজার ওয়েব পেজ নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এই প্রতিটি ওয়েবসাইটে হাজার হাজার ছবি ছিলো। এসব ছবির মাধ্যমে বোঝা যায় লাখ লাখ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরেও শিশু নির্যাতন কমছে না। অনলাইনে শিশু নির্যাতন এখন ‘এ যাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। ব্রিটিশ পুলিশের কাছে অনলাইন শিশু নির্যাতনের খবর আগের তুলনায় অনেক বেশি আসছে। তিনি বলেন, ‘অনলাইন শিশু যৌণ নির্যাতনের ঘটনা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয় কারন এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা।’

মহামারী শুরু হওয়ার আগে ‘শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ’ ব্রিটেনে এমন তিন লাখ ব্যাক্তিকে শনাক্ত করা হয়। ২০২১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে আট লাখ। দাতব্য সস্থাটি আরো জানিয়েছে ব্রিটেনে ৮০ লাখ ব্যাক্তি শিশু যৌণ নির্যাতনের ছবি দেখতে চায়।

এদিকে অনলাইনে শিশু নির্যাতন বন্ধ করতে অনলাইন সেফটি বিল গ্রহন করেছে ব্রিটিশ সরকার। বলা হচ্ছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে চাইল্ড-এবিউস ইমেজ থেকে ব্যবহারকারীকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। যেসব কোম্পানি এ নীতিমালা মেনে চলবে না তাদেরকে বৈশ্বিক টার্নওভারের ১০ শতাশ জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।

বিবিসি/আরএপি



[ad_2]

Source link

Leave a Comment