টুইটার ক্রয় চুক্তি : ইলন মাস্ক ও পরাগ আগাওয়ালের যে কথোপকথন মামলার ফাইলে

[ad_1]

টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর: নতুন খবর হচ্ছে, বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক আবার সচল করেছেন টুইটার কেনার প্রক্রিয়া। গত এপ্রিলে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন সে দামেই কিনবেন বলে বাজারে জোড় হাওয়া। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে ইলন মাস্ক ও টুইটার কর্তৃপক্ষের মধ্যে জল ঘোলা কম হয়নি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

কিন্তু জল এতো ঘোলা হলো কেন তার কিছুটা আঁচ পাওয়া যাবে মামলার ফাইলে প্রকাশ হওয়া ইলন মাস্ক এবং টুইটার প্রধান পরাগ আগাওয়ালের কথোপকথনে ।

আদালতের নথিতে দেখা গিয়েছে ইলন মাস্ক এবং পরাগ আগরওয়ালের মধ্যকার সম্পর্কের শুরুটা বেশ ভালোভাবেই হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে তা খুব নাটকীয়ভাবে নেতিবাচক মোড় নেয়।

Techshohor Youtube

গত মার্চে পরিস্কার জানা যায় যে ইলন মাস্ক টুইটারের শেয়ার কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং টুইটারের পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার। ২৭ মার্চ পরাগ আগরওয়াল লিখেন, ‘হ্যালো ইলন-আপনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পেরে আনন্দিত। আপনার সঙ্গে আড্ডা দিতে চাই।’ ইলন মাস্ক এর উত্তরে লিখেন,‘ এটি আজ রাত আটটার দিকে হতে পারে কি?’

এরপর গত ৩১ মার্চ সান হোজের কাছে খুব তাড়াহুরো করে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এখান থেকেই মূলত ইলন মাস্কের টুইটার কেনা বিষয়ক আলোচনা শুরু হয়। কথাবার্তা এগিয়ে যাওয়ার গতিতে আগরওয়াল বেশ আনন্দিত ছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি টুইটারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হবে তা নিয়ে আগরওয়াল বেশ রোমাঞ্চিত বোধ করেছেন। তিনি মাস্ককে বলেছেন সরাসরি তাকে দেখতে পেরে তিনি খুবই ‘উত্তেজিত’ বোধ করছেন।

টুইটারের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ব্রিট টেইলর মাস্ককে নৈশভোজের দাওয়াত দিয়ে টেক্সট করেছিলেন। খুব আনন্দের সঙ্গে নৈশভোজটি শেষ হয়। এর কয়েকদিন পরেই টুইটারের পক্ষ থেকে দেয়া এক ঘোষণায় বলা হয় ইলন মাস্ক তাদের বোর্ডে যোগ দিচ্ছেন। ঘোষণাটি সবাই জানার পর থেকে সবাই বিষয়টি জানার জন্য মাস্ককে টেক্সট করতে থাকেন।

এরমধ্যে পডকাস্টার জোয়ে রোগান মাস্কের কাছে জানতে চান কবে নাগাদ তিনি ‘সেন্সরশীপের ঝক্কি থেকে টুইটারকে মুক্ত করতে পারবেন।’ মাস্ক এর উত্তরে জানান, ‘আমি পরামর্শ দিতে পারি, কিন্তু সেটা অনুসরন করা হবে কিনা তা তাদের বিষয়।’ এরপর গত ৫ এপ্রিল টুইটারের সাবেক প্রধান নির্বাহি আগারওয়ালকে একজন ‘অবিশ্বাস্য প্রকৌশলী’ হিসেবে উলে­খ করলেও টুইটারের বোর্ডকে ‘ভয়ানক’ বলে জানান।

এভাবে ৯ এপ্রিলের আগে পর্যন্ত দুপক্ষের সম্পর্ক মিষ্টি ছিলো। কিন্তু এদিন মাস্ক এক টুইটে জানতে চান টুইটারের সবচেয়ে বেশি অনুসরনকারী অ্যাকাউন্টগুলেরার মধ্যে শুধুমাত্র হাতে গোনা কয়েকটি কেন বেশি টুইট করে। ‘টুইটার কি মরে যাচ্ছে?’ মাস্কের এই টুইটারে ক্ষেপে যান আগরওয়াল। তিনি ম্যাসেজ লিখেন, টুইটার মারা যাচ্ছে অথবা টুইটারের কিছু হতে যাচ্ছে এটি কি আপনি বলতে পারেন? বর্তমান প্রেক্ষপটে টুইটারকে আরো ভালো করতে এটি আমাকে সাহায্য করছে না তা জানানোর দায়িত্ব আমার। পরেরবার আমরা যখন কথা বলবো তখন বর্তমানে চলমান অভ্যন্তরীণ বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো এবং এটি কাজের সক্ষমতাকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে সে সম্পর্কে আপনাকে জানাবো।

অন্যদিকে কি করতে হবে এ ধরনের কথা একেবারেই পছন্দ করেন না ইলন মাস্ক। ফলে আগারওয়ালের এ কথায় মাস্ক বেশ বিরক্ত হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে কারণ কয়েক ঘন্টা পরেই তিনি ভয়াবহ এক বার্তা পাঠান। যেখানে লেখা ছিলো, ‘আপনি এ সপ্তাহে কি করছেন? আমি বোর্ডে যোগ দিচ্ছি না। এটি সময়ের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।’

আগারওয়াল এই ম্যাসেজগুলি দেখে বিভ্রান্ত হয়ে সাবেক সিইও ব্রেট টেইলরকে ফোন দেন। তিনি ঘটনাটি বোঝার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘পরাগ এইমাত্র আমাকে ফোন দিয়ে আপনাদের ম্যাসেজের বিষয়ে জানিয়েছে।’ মাস্ক তাকে বলেন, টেক্সট করে কথাবার্তার মাধ্যমে টুইটারের বিষয়টি সমাধান হবে না । এক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

টেইলর মাস্ককে আবারো বলেন, ‘ আপনি কি কথা বলার জন্য আমাকে ১০ মিনিট সময় দিতে পারেন? আপনি বোর্ডে যোগ দেয়ার প্রায় ২৪ ঘন্টা হয়ে গিয়েছে। আমি আপনার বিষয়টি বুঝতে পারছি। আর আমি হঠাৎ এই মনোভাবের বিষয়ে জানতে চাই।’

ইলন মাস্ক এরপর ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিলে বোর্ড তা গ্রহন করে। এরপরের দিন জ্যাক ডোর্সি দুপক্ষের মধ্যে আবার মিল করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মাস্ককে ফোন দেন কিন্তু তা কোন ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে নি। আলোচনার পর ডোর্সিকে মাস্কের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, ‘আপনি এবং আমি একটি পরিপূর্ণ চুক্তিতে রয়েছি। পরাগ খুবই ধীরগতিতে চলছেন এবং তার নেয়া সিদ্ধান্তে যারা আনন্দিত নয় তাদের খুশী রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।’

ডোর্সি প্রতিউত্তরে বলেন ‘অন্তত এটি এখন পরিস্কার যে আপনরা আর একসঙ্গে কাজ করতে পারছেন না।

সবশেষে মাস্ক গত জুলাইয়ে চুক্তিটি পুরোপুরি ভেস্তে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেপ্টেবরে এটি বিক্রির জন্য এখনো অনুমোদন দিয়ে রেখেছে টুই্টার। ডেলাওয়ারে দায়ের করা এক মামলার প্রেক্ষিতে মধ্য অক্টোবরের মধ্যেই মাস্ককে জানাতে হবে তিনি চুক্তি থেকে সরে আসবেন অথবা তাকে কোম্পানিটি কিনতে জোর করা হবে।

কিন্তু টেক্সট বার্তায় দেখা যায় বেশকিছুদিন আগেই টুইটার সিইও এবং মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। বলা হচ্ছে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক এতোটাই তিক্ত হয়ে উঠেছে যে মাস্ক যদি টুইটার কেনার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে পরাগ আগারওয়াল এ কোম্পানি ছেড়ে অন্যকোথাও কাজ খোঁজতে থাকবেন।

টুইটার কেনার সিদ্ধান্তে মাস্ক ফিরে আসায় এখন পরাগের পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় এখন প্রযুক্তি বিশ্ব।

বিবিসি/আরএপি



[ad_2]

Source link

Leave a Comment