‘গ্রাফিকস ডিজাইনের জন্য ভাষা বড় সমস্যা নয়’

[ad_1]

গ্রাফিকস ডিজাইন নিয়ে নানা ধরনের কাজ করছেন বাংলাদেশের অনেকেই। এ কাজটি শিখে এবং নিজের ক্রিয়েটিভিটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই দেশে এবং দেশের বাইরে কাজ করছেন। এ কাজের মাধ্যমে দেশে বসেই অনেকেই দেশের বাইরের নানা প্রতিষ্ঠানের কাজও করছেন এবং ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় এ কাজের চাহিদাও বেশ। পেশা হিসেবেই গ্রাফিকস ডিজাইন নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন এমরাজিনা টেকনোলজিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এমরাজিনা ইসলাম। নিজের উদ্যোগ, গ্রাফিকস ডিজাইন, দেশে ও দেশের বাইরে গ্রাফিকস ডিজাইনের সুযোগসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ।

টেকশহর: গ্রাফিকস ডিজাইন কেন শুরু করলেন?

এমরাজিনা ইসলাম:  আমার ব্যক্তিগত ভাবে অনেক আগে থেকেই ছবি আঁকা খুব পছন্দের ছিল। এতই ভালো লাগতো যে ছোটবেলাতেই আমি চারু ও কারুতে পড়েছি বাসায় না বলেই। বাসায় না বলেই আঁকাআঁকি বা আর্টের বিষয়ে শিখতে আগ্রহী হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে এ কাজকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে চিন্তা থেকেই গ্রাফিকস ডিজাইনে যুক্ত হয়ে পড়া। সেই থেকেই গ্রাফিকস নিয়ে কাজ করার শুরুটা।

Techshohor Youtube

টেকশহর: পরবর্তীতে গ্রাফিকস ডিজাইনকে পেশা হিসেবে কিভাবে অনলাইনে কাজ শুরুটা করলেন?

এমরাজিনা ইসলাম: সত্যি বলতে গ্রাফিকস ডিজাইন বলতে যে কিছু আছে আমি শুরুতে জানতামই না। আমি জানতাম, রং তুলি ছাড়া আঁকাআঁকি করা যায় না। সে সময়ে আমার পারিবারিক অবস্থাও খুব ভালো ছিল না। সে সময়টাতে এমন অবস্থা হলো যে আমাকে কিছু কাজ না করলে পড়াশোনাটাও নিয়মিত চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছিল। সময়টা ২০১০ সালে। সে সময়ে আমার এক বন্ধু আমাকে জানালো ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ক ওয়েবসাইটের কথা যেখানে গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ করা যায়। এবং আমি সে বন্ধুর বাসাতেই প্রথম গ্রাফিকস ডিজাইনের সফটওয়্যার ফটোশপের কথা জানতে পারি। এভাবে আমার অনলাইনে কাজ শুরুটা হয়।

টেকশহর: প্রফেশনাল ভাবে কাজ শুরু করলেন কিভাবে? কোন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে?

এমরাজিনা ইসলাম: যখন জানতে পারি অনলাইনে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ করা যায় তখন আমি দেখতে থাকি কি ধরনের কাজ আসলে সেখানে পাওয়া যায়। শুরুতে দেখলাম নানা ধরনের কাজ পাওয়া যায়। আমিও সেসব কাজগুলো গুগলে সার্চ করে বোঝার চেষ্টা করি এবং টানা তিন মাস ধরে সেসব কাজ প্র্যাকটিস করতে থাকি। ২০১১ সালের দিকে আমি প্রথম কাজ পাই। কাজ পাওয়ার পরেই আমার কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যায়। সে সময়ে আমি কলসেন্টারে কাজ করতাম। যা বেতন পেতাম সেটা দিয়ে নতুন কম্পিউটার কেনাও সম্ভব ছিল না। তারপরেও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে একটি কম্পিউটার কিনতে পারি এবং কাজটি সফল ভাবে সম্পন্ন করি। সে কাজে খুশি হয়ে আমাকে বাড়তি বোনাসও দেন উক্ত ক্লায়েন্ট।    

টেকশহর: নিজের প্রতিষ্ঠান শুরুর আগে কতদিন অনলাইনে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেছেন?

এমরাজিনা ইসলাম: আসলে আমি যখন কাজ করতাম তখন মাসে নানা ধরনের অংকের অর্থ আয় করতাম। দেখা যেত কোন মাসে একাই প্রায় ৯০ হাজার টাকা আয় করতাম আবার কোন মাসে সেটি ২৫ হাজার টাকা হতো। যখন কাজ আসতো তখন দেখা যেত ১৭ ঘন্টা কাজ করেছি। কাজ যখন বাড়তে থাকে তখন চিন্তা করলাম কয়েকজনকে নিয়ে একটা প্রতিষ্ঠান শুরু করতে পারি। শুরুতে মাকে বললাম কিন্তু বাসায় অফিসের কথা ভেবে মা রাজি হলেন না। পরবর্তীতে যখন বিয়ে করলাম তখন আমার স্বামীকে সে কথা বলার পর সমর্থন পেলাম। এভাবেই ২০১৪ সালে শুরু হয় আমাদের প্রতিষ্ঠান। ধীরে ধীরে যখন প্রতিষ্ঠান বড় হলো এবং ক্রিয়েটিভ কর্মীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলো।

টেকশহর: দেশের বাইরের বাজারে কাজ করার জন্য নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

এমরাজিনা ইসলাম: শুরুতে কমিউনিকেশন বিষয়টা জরুরী। তবে গ্রাফিকস ডিজাইনের ক্ষেত্রে খুব ভালো ইংরেজি জানতে হবে বিষয়টা এমন না। এ কাজটি আসলে ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুঝে নেয়া এবং সে মোতাবেক করে দেয়ার মাধ্যমেও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। ক্লায়েন্টের কাজটি বুঝে নিয়ে যতদ্রুত বুঝিয়ে দেয়া যায় ততই ভালো। এতে করে সহজেই ক্লায়েন্টের গুডবুকে নিজেকে রাখা যায়। অর্থাৎ কাজ বুঝে শেষ সময়ের আগেই সম্ভব হলে শেষ করে বুঝিয়ে দেয়া। পাশাপাশি ক্লায়েন্ট যেভাবে চায় সেভাবেই সে কাজটি শেষ করতে হবে এবং ক্লায়েন্টের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।   

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী]



[ad_2]

Source link

Leave a Comment