‘আয় করতে চাইলে প্রয়োজন স্কিলস’

[ad_1]

আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ২৪-২৫ বছর পরে চাকুরীর জন্য নতুন ভাবে পড়াশোনা করতে থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে যদি শিক্ষার্থীদের কিছু সফটস্কিল শেখানো যায় যা তাদের ভবিষ্যৎতের জন্য মাইন্ডসেট তৈরি করতে সহায়তা করতে পারে তাহলে তাদেরও নানা কাজে আগ্রহ বাড়বে। নিজের শিক্ষকতা এবং পিএইচডি গবেষণা কাজে লাগিয়ে সে বিষয়েই কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ইনোকিডস’র প্রতিষ্ঠাতা ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ। নিজের উদ্যোগ, সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির সহায়তা, গ্রাহকদের আরো উন্নত সেবা প্রদানের নানা বিষয়ে কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘টেক ভেঞ্চারস টক’-এ।

টেকশহর: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি ইনোকিডসের শুরুটা কেন এবং কিভাবে?

ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ:  গত ১৭ বছর ধরেই আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষকতায় এটা আসলে করতে হয় যে উচ্চশিক্ষা নিতে হয়। সে জন্য আমি ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় যাই মাস্টার্স করি এবং পরবর্তীতে আবার ২০১৪ সালে যাই পিএইচডি করতে। সে সময়ে শুরুতে অন্য একটা বিষয়ে পিএইচডি করা শুরু করলেও তেমন ভালো লাগছিল না। পাশাপাশি আমার শুরু থেকেই তরুণদের নিয়ে কাজ করার একটা আগ্রহ ছিল। পাশাপাশি আমাদের দেশে দেখা যায় প্রায় ২৪-২৫ বছর পর্যন্ত আমাদের পড়াশোনা শেষ করে চাকুরীর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ সময়ে তরুণরা ব্যাচে ব্যাচে বের হয় ভালো চাকুরীর জন্য। আমার মনে হলো, কেন তরুণদের এত বছর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। তখন একটা আইডিয়া আসলো, তরুণদের আগে থেকেই যদি কোন বিষয়ে প্রশিক্ষিত করতে পারি তাহলে দেখা যায় পড়াশোনা শেষে তার সেই প্রশিক্ষণ তাকে আলাদা কিছু করতে উৎসাহিত করবে। ২০১৫ সালে সে সময়টাতে আমি অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করার জন্য একটি স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে তাদের শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু সফট স্কিল শেখানোর জন্য কথা বলি। দেখা যায়, ৫ম শ্রেণীতে যদিও তাদের কিছু সফটস্কিল শেখানো যায় তাহলে তারা অনেকদিন ধরেই কোন বিষয়ে অপেক্ষায় থাকতে হবে না। পরে সে স্কুলেই আমি ১৮ মাস ধরে সে স্কুলে প্রশিক্ষণ দেই। পরে সেটিই আমার পিএইচডির বিষয় হয়। পরবর্তীতে পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে ২০১৯ সালে দেশেই ‘ইনোকিডস’ শুরু করি। তবে এ কাজটি আমি অস্ট্রেলিয়ার সরকার তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি ফান্ড দিয়েছিল শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়। সেখানে আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম সেখানে প্রায় ইনোকিডস নিয়ে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছি।

Techshohor Youtube

টেকশহর: এখন পর্যন্ত অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন বিষয়ে আগ্রহ দেখেছেন?

ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ: আমরা যখন ব্যাচগুলোতে সফট স্কিল, লাইফ স্কিল শেষ করলাম তখন টেক্সট স্কিল শুরু করলাম তখন দেখলাম তাদের প্রযুক্তির প্রতি বেশ আগ্রহী। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেহেতু ১০-১৬ বছরের মধ্যে তাই তারা বিভিন্ন ডিভাইসের প্রতি আগ্রহী বেশি। দেখা গেল, বাচ্চারা গ্রাফিকস শিখতে এবং গ্রাফিকস ডিজাইনের জন্য ক্যানভা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তাদের ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রেজেন্টেশন দেয়াসহ ডিজাইনের কাজগুলো যখনই আমরা শিখিয়েছি তাতেও তাদের  আগ্রহ ছিল। আমরা দেখেছি, এর মধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের পরিবারের জন্য ঈদ কার্ড, জন্মদিনের জন্য কার্ড তৈরি করতে পারছে। আমাদের উদেশ্য কিন্তু এখনই পড়াশোনা বাদ দিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে সেটা চাই না বরং চাই তাদের উদ্যোক্তা বান্ধব মাইন্ডসেট তৈরি হোক।

টেকশহর: উদ্যোক্তার বাইরে আপনি পেশাগত ভাবেও শিক্ষকতায় যুক্ত। এখন প্রযুক্তিকে ঘিরে বা কাজে লাগিয়ে যেমন উদ্যোক্তারা কাজ করছে সেটি কেমন হচ্ছে?

ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ: এখন আমাদের অনেক উদ্যোগই প্রযুক্তিভিত্তিক যেটা ভালোই। তবে এটা ঠিক বলা মুশকিল কারণ একেক জন একেকরকম বিষয় নিয়ে আগ্রহী এবং কাজ করে। সে বিষয়ে তিনি কাজ করার জন্য যে ধরনের প্রযুক্তি সহায়তা নেয়া প্রয়োজন সেটিই নিচ্ছেন। আমি যেমন ব্যক্তিগত ভাবে ব্লকচেইন বা ডিজিটাল ট্রান্সপরমেশন নিয়ে কাজ করি বা কথা বলি। এ বিষয়গুলো আমার ভালো লাগে। তবে আমার পরামর্শ হবে, যিনি বা যারা প্রশিক্ষণ বা শেখার বিষয়টি আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে তিনি বা তাকে সেই বিষয়ে যোগ্য ব্যক্তিটিকে খুঁজে বের করতে হবে। তবেই তিনি ভালো করতে পারবেন।

টেকশহর: ইন্ড্রাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার মধ্যে যে সংযোগ এখন সেটি কতটা কাজে লাগছে বলে মনে করেন?

ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ: আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার সংযোগটা যে জরুরী সেটা সকলেই বুঝতে পারলেও কাজটি কিন্তু সেভাবে হচ্ছে না। এক্ষেত্রে বড় সমস্যা মনে হয়, সঠিক পরিকল্পনা। আমাদের সিস্টেম সেভাবে গড়ে উঠেনি। আমি ১০-১৫ বছর আগে যখন দেশের বাইরে পড়েছি তখন দেখেছি সেখানেও মাস্টার্স পর্যায়ে একজন শিক্ষক সকল বিষয়ে ক্লাস নিতো না। দেখা যেত, সে শিক্ষকের পাশাপাশি ইন্ড্রাস্ট্রির অভিজ্ঞরাও দেখা যায় ক্লাস নিচ্ছে। তাতে আমাদের বর্তমান সময়ের নানা কাজের মধ্যেও নানা বিষয় সেখার সুযোগ হয়েছে আমাদের। আর আমাদের দেশে আমরা যে কারিকুলাম পড়াচ্ছি সেটিও বহু বছরের পুরোনো যার সঙ্গে বর্তমানের কোন মিল নেই। যার ফলে শিক্ষার্থীরা আসলে যা শিখছে তার সঙ্গে বর্তমানের মিল পাচ্ছে না। দেখা যাচ্ছে, কোভিডের শুরুতে আমরা যা শিখেছি তা কিন্তু এখন কোভিডের পরে এখন আর কাজ করছে না। আমি ইতিমধ্যে ক্রস কালচার বিষয়ে একটা উদ্যোগ নিয়েছি। আমি দেশের বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে আমার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। একই ভাবে আমারও সুযোগ হয়েছে অন্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেয়ার।

টেকশহর: ইনোকিডস নিয়ে কিভাবে আগামী দিনগুলোতে কিভাবে কাজ করতে চান?

ড. রাফিউদ্দীন আহমেদ: ভবিষ্যতে আমি ফিজিক্যাল পদ্ধতিতে কাজ করতে চাই। বিষয়টি যেহেতু নতুন তাই আমিও চাই বাচ্চাদের সরাসরি কিছু প্রশিক্ষণ দিতে চাই। তাদের সহায়তা করতে আমরা স্কিলগুলো শেখাতে চাই এবং তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা। কোন নির্দিষ্ট একটি বিষয়েই যাতে কেউ এগিয়ে না গিয়ে বরং আরো একধিক বিষয়ে জানতে পারে। এ বিষয়ে বাচ্চাদের মাইন্ডসেট তৈরি করা এবং পাশাপাশি অভিভাবকদেরও মাইন্ডসেট তৈরি করা যাতে করে তারাও বাচ্চাদের এসব বিষয়ে স্কিলস শিখতে সহায়তা করতে পারে।

[সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টেকশহর ডট কমের স্পেশাল করসপনডেন্ট নুরুন্নবী চৌধুরী]

[ad_2]

Source link

Leave a Comment