ফাইভজি প্রযুক্তিতে হুয়াওয়ে কতোটা এগিয়ে, দেখলো বিশ্ব

[ad_1]

আল-আমীন দেওয়ান, ব্যাংকক থেকে : ফাইভিজি নিয়ে সারাবিশ্বের বিশেষজ্ঞদের এমন ধারণ বা পর্যবেক্ষণ বেশ কয়েক বছর আগেই হতেই শুনছি আমরা যে, এমন কিছু ঘটতে চলেছে যা হয়ত কল্পনাকেও হার মানাবে ।

এমন ধারণা যে অনেক দূরের ছিলো না তা নিশ্চিত হতে২০২২ সাল পেরোতে হয়নি । ফাইভজি কীভাবে প্রচলিত জীবনধারা ও ব্যবসার ধারণাই বদলে দিতে যাচ্ছে তার অনেক নমুনাই চলে এসেছে। যার খানিকটা দেখা গেলো ব্যাংককে সোমবার হতে শুরু হওয়া হুয়াওয়ের গ্লোবাল মোবাইল ব্রডব্যান্ড ফোরাম-২০২২ বা এমবিবিএফ- এ ।

যেখানে হুয়াওয়ের রোটাটিং চেয়ারম্যান কেন হু, জিএসএমএ এর চিফ মার্কেটিং কর্মকর্তা লারা দেওয়ার, হুয়াওয়ের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অব বোর্ড এবং আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ম্যানেজিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং, এলজি ইউ প্লাসের এক্স আর বিজনেস বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়োন হো চই, আজিয়াটা গ্রুপের চিফ স্ট্রেট্রেজি অ্যান্ড টেকনোলজি অফিসার থমাস হান্ট, টেলিকম আর্জেন্টিনার সিইও রবার্তো নোবিলেসহ সারা বিশ্ব হতে আসা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ-বিশ্লেষক ও বিভিন্ন কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংগঠনের নেতারা ফাইভজির গন্তব্য ও বাস্তবতা নিয়ে নতুন এক পৃথিবীর কথা বলছেন।

Techshohor Youtube

দু’দিনের এই আয়োজনের দ্বিতীয় দিন তাঁদের কিনোট ও উপস্থাপনা শেষে যখন বাস্তব প্রয়োগগুলো দেখতে এক্সিজিবিশন হলে ঢুকেছি, বিস্ময় যেনো শেষ হয় না, এ যেনো আরেক পৃথিবী !

ঢুকেই চার পেয়ে দুই রোবটের মুখোমুখি, যেনো তাকিয়ে আছে চোখ চোখ রেখে। হ্যালো জানাতেই নানা অঙ্গভঙ্গিতে তার উত্তর এলো, মানে আমাকেও সম্ভাষণ । বললাম ‘স্টে’, ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো তারা, সিট ডাউন বলতেই ফ্লোরের সঙ্গে বুক মিলিয়ে একদম চুপ। সেলফি তোলার ইচ্ছা হলো, ওমা-তারাও দেখি পাশে এসে সেলফির জন্য পোজ দিয়ে তৈরি।

কথা বলছিলাম এই রোবট নিয়ে হুয়াওয়ের জো চেনের সঙ্গে। বলছিলেন, ছয়টি করে ফুল এইচডি এআই ক্যামেরা রয়েছে রোবট দুটিতে। যার মাধ্যমে আমাদের আদেশ বা কথাগুলো হুয়াওয়ের ক্লাউডে চলে যায়। এরপর সেই ডেটা প্রসেস হয়ে আবার রোবটের কাছে আসে এবং রোবট তা পালন করে। যেখানে ফাইভ দশমিক ফাইভ নেটওয়ার্ক দিয়ে মানুষের মতোই একদম লাইভ বা বাস্তব কার্যক্রমগুলো হচ্ছে।

কথা হচ্ছিলো ফাইভ দশমিক ফাইভ নিয়ে । যোগ দিলেন হাক জাং, তিনিও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন । জানতে চাইলাম, ফাইভজিই মাত্র শুরু হলো সেখানো ফাইভ দশমিক ফাইভজি এখনই ?

হাক বলছিলেন, ২০৩০ এর মধ্যে এই প্রযুক্তিও চলে আসবে। যেখানে ১০ জিবিপিএস ডাউনলোড গতি, ১ জিবিপিএস আপলিংক এবং ১০০ বিলিয়ন সংযোগের কথা বলা হচ্ছে। যার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আইওটি সংযোগ হয়ে বৃদ্ধিবৃত্তিক আরেক ধাপের পৃথিবীর সূচনা হবে।

হাক আমাকে আমন্ত্রণ জানান, মেটাভার্স পরখ করে দেখতে। এমন আমন্ত্রণ কী ফেরানো যায়। স্ক্রিনে হাত রাখতেই যেন আমি চলে গেলাম পান্ডাদের ভুবনে। সেখানে গাছ হতে আপেল তোলা, পান্ডাদের সঙ্গে খেলাও করলাম। যেন বাস্তব অনুভূতি ! হাক বলছিলেন, এই যে সংযোগের প্রযুক্তি, এটিই আসছে বিশ্ব।

ফাইভজি নেটওয়ার্কে মেটাভার্সের পৃথিবীতে

এবার এলাম ফাইভজি এআই ক্যামেরার এক চমক দেখতে। এই ক্যামেরা মাঠের খেলাকে সরাসরি আপনার ডিভাইসে দেখার সুযোগ করে দেবে।

দেখা হলো জেমসের সঙ্গে, তিনি হুয়ওয়ের সঙ্গে রয়েছেন। বলছিলেন, ক্যামেরাটি মাঠের সব নিয়ম-কানুন ও প্রতিটি খেলোয়ারকে ফলো করতে পারে। এতে ক্লাবগুলোর খেলার সম্প্রচার টিভি ছাড়াও সরাসরি ক্লাবগুলো হতে সাবস্ক্রাইব হয়ে দেখা যাবে। এছাড়া কোচ বা ক্লাব কর্তৃপক্ষ যেকোনো জায়গায় বসে প্রাকটিস ম্যাচসহ মাঠে টিমের সার্বিক কার্যক্রম চালাতে পারবে।

একটু এগুতেই দাঁড়াতে হলো। হুয়াওয়ের আলোচিত স্মার্ট হাসপাতালের প্রযুক্তি সম্পর্কে বলছিলেন হুয়াওয়ের এক কর্মকর্তা। দেখাচ্ছিলেন কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি। ফাইভজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক প্রত্যন্ত এলাকার রোগী এক্সরে রিপোর্ট পরীক্ষা ,প্যাথলজি পরীক্ষাসহ বিশ্বের কোনো প্রান্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা। তারা বলছেন, চালকবিহীন অ্যাম্বুলেন্সের কথা যা ইতোমধ্যে থাইল্যান্ডের সিরিরাজ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে। এমন স্মার্ট হাসপাতাল প্রযুক্তি চীনেও চালু করেছে হুয়াওয়ে।

জ্যাসন টি দেখাচ্ছিলেন ফাইভজির জন্য হুয়াওয়ের মাইক্রোওয়েভ অ্যাকসিলারেটস। বলছিলেন কীভাবে এই প্রযুক্তি উন্নত নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দেবে। এরমধ্যে হুয়াওয়ের এমএমওয়েভ সলিউশনের বেশ কিছু বানিজ্যিক ডিভাইসে নেটওয়ার্ক অপারেটরদের আগ্রহ লক্ষ্য করার মতো।

প্রিমিয়াম ফাইভজি হোম সলিউশন ছাড়াও কারখানা নিরাপত্তা, পাওয়ার গ্রিড এবং বন্দর অটোমেশন, গেইমিং, টুরিজমসহ বিভিন্ন খাতে ফাইভজির ভবিষ্যত বাস্তবতা ও সুফল তুলে এনেছে হুয়াওয়ে। আর এসব পণ্যেও বেশ আগ্রহ ছিলো খাত সংশ্লিষ্টসহ দর্শণার্থীদের ।

এছাড়া ফাইভজি নেটওয়ার্ক তৈরিতে হুয়াওয়ের কুল টেকনোলজির ফাইভজি গ্রিন এবং কম কার্বণের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির উদ্ভাবন বিশ্বের চ্যালেঞ্জিং পরিবেশের প্রেক্ষাপটে দারুণ ভুমিকা নেবে বলেই বোদ্ধারা বলছেন।

তাদের অনেকেই বলছিলেন, এগিয়ে থাকা এসব প্রযুক্তি সঙ্গে যত দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয়ার পরিবেশ তৈরি করা যাবে ততো দ্রুত ফাইভজির সুফলগুলো মানুষ পাবে এবং ওই ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা এগিয়ে থাকবেন।

এই প্রদর্শণীতে সারা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটরা হুয়াওয়ের ফাইভজি টেকনোলজি ব্যবহার করে কীভাবে সেবা খাতে মেটাভার্স, আইওটি, রোবোটিকসের মতো প্রযুক্তি নিয়ে ব্যবসা সফল হচ্ছে বা হতে পারে তা তুলে ধরেছে।

আসলে প্রযুক্তির সঙ্গে জীবনের সংযোগের যে বিস্ময়কর এক মাত্রা আনতে চলেছে ফাইভজি, হুয়াওয়ে ও তার অংশীদাররা এই আয়োজনে তার বাস্তব উদাহরণ দেখিয়ে দিয়েছে।

বোঝাই যাচ্ছে শুরুটা অনেকের আগেই করেছে হুয়াওয়ে যেখানে ফাইভজির সময়ের নতুন ‘কানেক্টিং পৃথিবী’তে অনেকটা স্থানই দখল করে থাকবে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট।



[ad_2]

Source link

Leave a Comment