অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ড পেলো বিটিআরসির ‘একদেশ একরেট’

[ad_1]

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সারাদেশে একদামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালুর জন্য বিশ্বে সম্মানজনক অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে বাংলাদেশ।

‘এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল অ্যান্ড গভর্নেন্স’ ক্যাটাগরিতে ২০২২ সালের এই এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন বা অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ড মিলেছে।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিও ওয়ার্ল্ড সামিটে ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশের পক্ষে এই অ্যাওয়ার্ড নেন বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ । অ্যাসোসিওর চেয়ারম্যান ডেভিড ওয়াং এ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।

Techshohor Youtube

অ্যাসোসিও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোগকে এই অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে তথ্যপ্রযুক্তিতে সাফল্য অর্জন করায় এরআগেও বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি অ্যাওয়ার্ডটি পেয়েছে ।

২০১০ সালে অ্যাসোসিও লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ২০২১ সালে এ অ্যাওয়ার্ড পান ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ড হাতে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ

কেনো এই অ্যাওয়ার্ড?

অ্যাসোসিও বলছে, ব্রডব্যান্ডে এই ‘একদেশে একরেট’ বাংলাদেশে প্রযুক্তির বিকাশ ও প্রয়োগে অসামান্য অবদান রাখার মাধ্যমে এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য চমৎকার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ টেকশহর ডটকমের অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, একদেশ একরেটের ট্যারিফ বাস্তবায়নের বাস্তবায়নের ফলে তথ্য প্রযুক্তি খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন সাধিত হবে। দেশের জনসাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে গুণগত শিক্ষা ও মানসম্মত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদেরকে দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

তিনি মনে করেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেটের চাহিদা এবং ব্যবহার বাড়ার কারণে এসব এলাকায় বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে উঠবে। যেমন, আইসিটি ইনকিউবেটর, আইটি শিল্প পার্ক, আইসিটি নির্ভর শিল্প কারখানার চাহিদা বাড়বে এবং সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরণের অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হবে।

‘দেশের সব জায়গায় একদামে ইন্টারনেট সেবা মেলায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জনসাধারণ বিভিন্ন ই-সার্ভিস নিতে আগ্রহী হবে। এতে দেশে ডিজিটাল ডিভাইড দূর করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া দুর্বল জনগোষ্ঠীর কাছে বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং দেশের একটি কার্যকর ই-গভার্নেন্স প্রতিষ্ঠিত হবে’ বলেছিলেন বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের এই মহাপরিচালক ।

অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ডের ক্রেস্ট

যেভাবে বাস্তবায়ন :

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ।

‘একদেশ একরেট’ বাস্তবায়নের পেছনের গল্পটা বেশ দীর্ঘ এবং চ্যালেঞ্জিং। সারাদেশে ব্রডব্যান্ডের এই দামের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতি ছিলো না। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছেও দাম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য ছিলো না।

মো. নাসিম পারভেজ বলছিলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আইএসপি, এনটিটিএন, আইইজির মতো স্টেকহোল্ডাদের সমন্বয় করার কাজটি করতে হয়েছে। এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিলো, কারণ একেকজনের ব্যবসা ও প্রাইস মডেল একেক রকম। অসংখ্য বৈঠক করতে হয়েছে এসব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে, নানা দিকে ডেটা বিশ্লেষণ করতে হয়েছে। উদ্যোগটি যেন টেকসই হয়, সব দিক হতে বাস্তবসম্মত হয়-এসব দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়েছে।’

বর্তমানে আইএসপিদের ট্যারিফ নির্ধারণেও বিটিআরসির পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। এবং এই ট্যারিফ গ্রাহকদের জানাতে বলা হয়েছে যেন গ্রাহকরা ‘একদেশ একরেটে’র সেবা, নির্ধারিত ট্যারিফ পাচ্ছেন কিনা তা যাচাই করতে পারেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের মূল্য যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আর সে লক্ষ্যেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের নির্দেশনায় বিটিআরসি এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর হতে যা কার্যকর হয়। যার ফলে মোবাইল ইন্টারনেটের দামের ক্ষেত্রে ২০২১ সালে জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশন ইন্টারনেটের দামের একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। লক্ষ্য অনুযায়ী, একটি দেশের জাতীয় মাথাপিছু আয় যা হবে, তার ২ শতাংশের কম খরচ হবে ইন্টারনেট বাবদ। ২০২১ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের দাম জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া এই সীমার মধ্যেই ছিল।



[ad_2]

Source link

Leave a Comment