‘দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে স্মার্ট বন্দর’

[ad_1]

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সমুদ্র বন্দরের গুরুত্ব প্রতিটি দেশের কাছেই।

অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন বিশ্লেষকরা বলেন, একটি দেশের কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দ্রুত প্রসারের জন্য সমুদ্র বন্দর পূবশর্ত । যার মাধ্যমেই দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটে। যে দেশের কোনো সমুদ্র বন্দর নেই সেই দেশকে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে, বেশিরভাগ বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য তারা পুরোপুরি অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকে।

চীন কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো তাদের সমুদ্র বন্দরগুলোর প্রাযুক্তিক উন্নয়ন ঘটিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক গতি এনেছে, যা অনেক দেশের কাছে এখন উদাহরণ।

Techshohor Youtube

একটি বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে বন্দরে জাহাজ আসা এবং বন্দর ছেড়ে যাওয়া, বন্দরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, ইয়ার্ড অপারেশন, ম্যানুয়াল ট্রাক্টর ট্রেলার পরিবহন এবং গেট অপারেশন উল্লেখযোগ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্দর ডিজিটালাইজেশনের অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ হলো অটোমেটিং হরাইজন্টাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা তৈরি করা, যা বন্দরের অভ্যন্তরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে, বর্তমানে প্রচলিত প্রথাগত হরাইজন্টাল ট্রান্সপোর্ট পদ্ধতির তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হলো, কাজের প্রতিকূল পরিবেশ, চালকের ক্লান্তিজনিত কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অদক্ষ ম্যানুয়াল ডিসপ্যাচিং।

বর্তমানে বন্দরের এই কার্যক্রমকে ত্বারাণ্বিত করতে ও বন্দরগুলোকে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরিত করতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করছে।

যেমন, বেইজিংয়ের তিয়ানজিন বন্দরের কথা। তিয়ানজিন বন্দরের বেইজিং বন্দর এলাকার সেকশন সি টার্মিনাল হুয়াওয়ে এবং তিয়ানজিন বন্দর যৌথভাবে একটি ইন্টেলিজেন্ট হরাইজন্টাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম তৈরি করেছে। প্রকল্পটি লেভেল চার অটোনোমাস ড্রাইভিং বা স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং অর্জন করেছে। দক্ষতার সাথে একে অপরকে সহযোগিতা করার জন্য বহরে ৭৬ আইজিভি যুক্ত করেছে। বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে হুয়াওয়ে ক্লাউড-ভিত্তিক সেন্ট্রালাইজড ডিসপ্যাচিং ব্যবহার করেছে।

হুয়াওয়ের হরাইজন্টাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা এর পাঁচটি সুবিধার কথা বলা হচ্ছে ।

প্রথমত, এটি বৈশ্বিক পথ পরিকল্পনার পথকে সুগম করে। হুয়াওয়ে একটি বৈশ্বিক পথ পরিকল্পনা অ্যালগরিদম ডিজাইন করেছে, যা গাড়ির গতিবিদ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে নিশ্চিত করা যাবে, পৃথক যানবাহন পৃথক পথে থাকবে।

দ্বিতীয় সুবিধা হলো, উচ্চ-নির্ভুল অবস্থান। হুয়াওয়ে বেইডুয়ো, ফাইভজি এবং এইচডি মানচিত্র ব্যবহার করে রাস্তার পাশে সেন্সিং সহায়তা সহ উচ্চ-নির্ভুল লেন বা স্তরের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। ফলে, ৯০ শতাংশ কি ক্রেন সফলভাবে প্রথম চেষ্টায় সারিবদ্ধ হয়, যা উল্লেখযোগ্যভাবে অপারেশন দক্ষতা উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।                    

তৃতীয় সুবিধা হলো, বন্দরের উন্নতীকরণে হুয়াওয়ে এমডিসি বুদ্ধিমান ড্রাইভিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এ উন্নত ব্যবস্থা এমডিসি অটোমোটিভ-গ্রেডের নিশ্চয়তা প্রদান করে, যা কম্পিউটিং শক্তি ও দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিশ্চিত করে। পাশাপাশি, উন্নত হার্ডওয়্যার সুবিধার মাধ্যমে এটি ওঅ্যান্ডএমকে সহজ করেছে। 

চতুর্থ সুবিধা হলো, কোর সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন। টিওএস এর মতো মূল পরিষেবা ব্যবস্থা ছাড়াও, হুয়াওয়ের ইন্টেলিজেন্ট হরাইজন্টাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম অন্যান্য পেরিফেরাল সার্ভিস সিস্টেমের সাথে দ্রুত আন্তঃসংযোগ করতে পারে।

পঞ্চম সুবিধা হলো, ক্লাউড-ভেহিকেল ডিকাপলিং। হুয়াওয়ে একটি উন্মুক্ত ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে যানবাহন থেকে ক্লাউডকে আলাদা করে। ফলস্বরূপ, এ সল্যুশনটি ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং ভেহিক্যাল মডেলের বিস্তৃত পরিসরকে সমর্থন করে, যা এটিকে আরও সাশ্রয়ী করে।

সর্বোপরি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্দরগুলোকে স্মার্ট বন্দরে পরিণত করতে আগামী দিনগুলোতে হুয়াওয়ে অন্যান্য অংশীদারদের সাথে কাজ করতে চায়।

খাত বিশেষেজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও চট্টগ্রাম, মংলাসহ অন্যান্য বন্দরগুলোকে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তর করা গেলে নি:সন্দেহে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।



[ad_2]

Source link

Leave a Comment