বাংলাদেশের জনপ্রিয় ৫টি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সমূহ

মোবাইল ব্যাংকিং কি: মোবাইল ব্যাংকিং হলো মূলত টেলিযোগাযোগ এবং ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেন করাকে বোঝায়।

সহজ কথায় বলতে গেলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করা এবং আর্থিক লেনদেন করাকে মোবাইল ব্যাংকিং বলে। বর্তমান সময়ের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার প্রচার এবং প্রসার বেড়েই চলেছে।

এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো একজন ব্যাংক কাস্টমার তার হাতের মোটেই থাকা মোবাইলের মাধ্যমেই ব্যাংকের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছে। এতে করে একজন ব্যবহারকারীর সময় এবং ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি করার মত বিভ্রাট থেকে মুক্তি পাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার প্রসার আরো বাড়বে বলেই ধারণা করা যায়। তো চলুন বর্তমানে বাংলাদেশে জনপ্রিয় কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার কথা জেনে নেওয়া যাক,

বাংলাদেশের ৫টি জনপ্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং তালিকাঃ

বিকাশ – ব্রাক ব্যাংক
নগদ – ডাক বিভাগ
রকেট – ডাচ-বাংলা ব্যাংক
শিওর ক্যাশ – রূপালি ব্যাংক
এম ক্যাশ – ইসলামী ব্যাংক

১. বিকাশ – ব্রাক ব্যাংক –

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা মোবাইল ব্যাংকিং হলো বিকাশ। এটি ২০১১ সালে ব্রাক ব্যাংক বিকাশ তৈরি করে। আপনি *২৪৭# ডায়াল করে তাদের সেবা গুলো নিতে পারবেন। আপনি এই মোবাইল ব্যবহার করে যে কোন সময় তাদের সেবা গ্রহন করতে পারবেন।

আপনি বিনামূল্য বিকাশ একাউন্ট করতে পারবেন। তবে আপনি আইডি কাড ছাড়া আপনি এই একাউন্ট ভেরিফাই করতে পারবেন না। আর ভেরিফাই না করতে পারলে আপনি সে একাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। সেজন্য আপনাকে আগে একাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে।

আপনি যদি একাউন্ট একটিব করে ফেলতে পারে পরে আপনি ঘরে বসেই মোবাইল ব্যাংকিং এর সকল সেবা গ্রহন করতে পারবেন। তাদের সের‍া সাভিস গুলো হলো মানি সেন্ড করা, বিভিন্ন পেমেন্ট করা, রিচাজ করা , টেক্স প্র‍দান করা, সহ এই রকম আরো বেশ কয়েকটা সেবা দিয়ে থাকে। আপনি বিকাশ গুলো ব্যবহার করে তারা এই কাজ গুলো করে থাকে।

২. নগদ – ডাক বিভাগ –

বাংলাদেশের একমাত্র সরকারী একমাত্র মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হলো নগদ। এটা দেশের ডাক বিভাগের একটা সেবা। আপনি নগদের মাধ্যমে দেশের যে কোন প্রান্তে লেনদেন করতে পারবেন। *১৬৭#ডায়াল করে আপনি তাদের সেবা গ্রহন করতে পারবেন।

আপনি এই একাউন্ট করলেও বিনামূল্য একাউন্ট করতে পারবেন। কিন্ত এগুলো যেহেতু ব্যাংকিং সাভিস সেই কারনে আপনাকে অবশ্যই সেই একাউন্ট গুলো ভেরিফাই করে নিতে হবে। আপনি যদি একাউন্ট ভেরিফাই না করে একাউন্ট থেকে লেনদেন করতে পারবেন না।

আপনি নগদে ব্যবহার করেও মানি সেন্ড করা, বিভিন্ন পেমেন্ট করা, রিচার্জ করা , টেক্স প্র‍দান করা, সহ প্রায় সকল প্রকার কাজ করতে পারবেন । তবে মনে রাখবেন নগদে আপনাকে চাজ কম ধরা হয়। যে সুবিধা আপনি অন্য কোন ব্যাংকিং এর মাঝে পাবেন না।

তাছাড়া বর্তমানে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং ইসলামিক শরীয়া মোতাবেক নগদ ইসলামিক একাউন্ট সেবা চালু করেছে। নগদ ইসলামিক একাউন্টে আপনি কোন মুনাফা বিহীন আপনার অর্থ জমা করে রাখতে পারবেন। এবং নগদ ইসলামিক একাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন যাকাত এবং ডোনেশন প্রদান করতে পারবেন।

৩. রকেট – ডাচ-বাংলা ব্যাংক –

বাংলাদেশের ডাচ বাংলা ব্যাংকটি খুবই জনপ্রিয় কারন বেশির ভাগ বেসরকারী ব্যাংক তাদের পেমেন্ট গুলো ডাচ বাংলা ব্যাং ক এর মাধ্যমে করে থাকে। যে কারনে অনেক আগে থেকেই রকেট খুবই জনপ্রিয়। আর বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন মোবাইল ব্যাংকিং হলো রকেট।

আপনি ড‍াচ বাংলা ব্যাংকে এজেন্টে খুজ নিয়ে তাদের কাছে থেকে আইডি কাড ব্যবহার করে একাউন্ট করতে পারবেন। আপনি সেই কারনে আপনি একাউন্ট ব্যবহার করতে গেলে আপনি ভেরিফাই করতে গেলেই আইডি কাড লাগবে।

আপনি রকেটেও যে কোন প্রকারের লেনদেন করতে পারবেন। মানি সেন্ড করা, বিভিন্ন পেমেন্ট করা, রিচাজ করা , বিল প্রদান করা সহ প্রায় সকল কাজ তারপরে ঘরে বসেই করতে পারবেন। যে কারনে এই সাইট গুলো খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। আপনি *৩২২# ডায়াল করে রকেটের সাভিস গুলো পেতে পারবেন।

৪. শিওর ক্যাশ – রূপালি ব্যাংক –

রুপালি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হলো শিওর ক্যাশ। আপনি চাইলেও নিজেও এইটা ব্যবহার করে সেবা নিতে পারবেন। শিওর ক্যাশ এর সেরা কিছু সেবা হলো ক্যাশ আউট, ক্যাশ ইন, সরকারী ভাতা বিতরণ, বেতন বিতরণ, এটিএম বুথ তোলা ইত্যাদি খুবই জনপ্রিয়।

আপনি চাইলে অন্য সেবা গুলোর মতো এই সেবাও গ্রহন করতে পারবেন। ‍যারা রুপালি ব্যাংক ব্যবহার করে তারা চাইলে খুব সহজেই রুপালি ব্যাংক এর ব্যবহার করতে পারবেন। তারা যেকোন প্রয়োজনে তাদের লেনদেন এর জন্য তারা রুপালি ব্যাংক এর একাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা একাউন্ট ্এর মাঝে আনতে পারবেন।

৫. এম ক্যাশ – ইসলামী ব্যাংক –

বাংলাদেশের বেশ কিছু জায়গাতে ইসলামী ব্যাংক খুবই জনপ্রিয়। কারন তাদের সেবা গুলো খুবই দ্রুত দিয়ে থাকে। যেমন তারা শিক্ষাথীদের জন্য বিনামূল্য একাউন্ট করার ব্যবস্থা করে থাকে। এই জনপ্রিয় ব্যাংকিং সেবাটির মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নাম হলো এম ক্যাশ। যেটার মাধ্যমে আপনি অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গুলো মতো সেবা গ্রহন করতে পারবেন।

শেষ কথাঃ

আশা করি আজকের আর্টিকেলটির মাধ্যমে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আপনি যদি এখনো মোবাইল ব্যাংকিং এর সেবা গ্রহণ করে না থাকেন তাহলে আজই পছন্দ মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

Leave a Comment